গভীর শোক ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমরা, খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন ও সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ (Alumni & General Students), আমাদের অত্যন্ত প্রিয় শিক্ষক, অভিভাবক এবং ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস (MIS) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান (সাবেক) ও আইসিটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মরহুম তাহেরউল আলম স্যারের অকাল প্রয়াণে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
মরহুম তাহেরউল আলম স্যার তাঁর অতুলনীয় সততা, কর্মনিষ্ঠা, মানবিক মূল্যবোধ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব নেতৃত্বের মাধ্যমে এমআইএস বিভাগকে একটি সুসংগঠি…
গভীর শোক ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমরা, খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন ও সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ (Alumni & General Students), আমাদের অত্যন্ত প্রিয় শিক্ষক, অভিভাবক এবং ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস (MIS) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান (সাবেক) ও আইসিটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মরহুম তাহেরউল আলম স্যারের অকাল প্রয়াণে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।
মরহুম তাহেরউল আলম স্যার তাঁর অতুলনীয় সততা, কর্মনিষ্ঠা, মানবিক মূল্যবোধ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব নেতৃত্বের মাধ্যমে এমআইএস বিভাগকে একটি সুসংগঠিত ও গৌরবময় অবস্থানে নিয়ে গেছেন। তিনি কেবল একজন বিভাগীয় প্রধানই ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন প্রতিটি শিক্ষার্থীর দিকনির্দেশক, দুঃসময়ের পরামর্শদাতা এবং একজন আদর্শ মানুষ গড়ার কারিগর। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এবং দেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষাবিদকে হারাল, যা নিঃসন্দেহে একটি অপূরণীয় ক্ষতি।
প্রিয় শিক্ষকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং তাঁর অবদানকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে আমরা প্রাক্তন ও সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট নিম্নোক্ত দাবিসমূহ অত্যন্ত বিনীতভাবে উপস্থাপন করছি
আমাদের দাবিসমূহ:
১. প্রাতিষ্ঠানিক শোকবার্তা ও স্মারক প্রকাশ:
বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অবিলম্বে আনুষ্ঠানিক শোকবার্তা প্রকাশ করা।
মরহুম তাহেরউল আলম স্যারের গৌরবোজ্জ্বল কর্মজীবন, শিক্ষা ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ও অর্জনসমূহ সংবলিত একটি বিশেষ স্মারক বিবৃতি বা প্রোফাইল প্রকাশ করা।
২. স্মৃতিচারণ সভা ও দোয়া মাহফিল:
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি কেন্দ্রীয় ‘স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল’-এর আয়োজন করা।
বিভাগীয় পর্যায়ে তাঁর কর্মজীবন ও আদর্শ নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন।
৩. অবদানের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও স্মৃতি সংরক্ষণ:
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো উপযুক্ত স্থাপনা, আধুনিক সেমিনার কক্ষ বা কম্পিউটার ল্যাব মরহুম তাহেরউল আলম স্যারের নামে নামকরণ করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক নথিপত্র ও ইতিহাসে এমআইএস বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা/উন্নয়ন অগ্রদূত হিসেবে তাঁর অবদানকে আনুষ্ঠানিকভাবে লিপিবদ্ধ ও সংরক্ষণ করা।
৪. শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি মানবিক ও আর্থিক সহায়তা:
১২ বছর ধরে যে মানুষটি এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজের পরিবার ভেবেছেন, তাঁর সন্তানদের কেবল নামমাত্র পড়াশোনা নয়, বরং তাদের স্বাবলম্বী ও প্রতিষ্ঠিত হওয়া পর্যন্ত অভিভাবকত্বের একটি সুনির্দিষ্ট আইনি দলিল তৈরি করা। স্যারের স্ত্রীর সম্মানজনক কর্মসংস্থানের লিখিত প্রজ্ঞাপন জারি করা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী তাঁর পরিবারের জন্য বিশেষ আর্থিক অনুদান বা কল্যাণ তহবিল থেকে এককালীন আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা।
মরহুমের পরিবারের যেকোনো যৌক্তিক ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান।
৫. দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী উদ্যোগ গ্রহণ:
প্রতি বছর তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে একাডেমিক সেমিনার বা "তাহেরউল আলম স্মারক বক্তৃতা" (Memorial Lecture)-এর আয়োজন করা।
বিভাগের মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য তাঁর স্মরণে একটি স্থায়ী "তাহেরউল আলম স্মৃতি বৃত্তি" চালু করার বিষয়টি বিবেচনা করা।
মহোদয়,
মরহুম তাহেরউল আলম স্যার তাঁর মেধা, প্রজ্ঞা ও স্নেহ দিয়ে অসংখ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ার পথ দেখিয়েছেন। তাঁর প্রয়াণে সৃষ্ট শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই সংকটে তাঁর স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো খাজা ইউনুস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের নৈতিক, মানবিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের অংশ।
অতএব, বিনীত প্রার্থনা এই যে, উপর্যুক্ত মানবিক ও যৌক্তিক দাবিসমূহ সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে আপনার সদয় হস্তক্ষেপ ও নির্দেশনা কামনা করছি।
মহান আল্লাহ তাআলা মরহুম তাহেরউল আলম স্যারকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন এবং তাঁর পরিবারকে এই গভীর শোক সহ্য করার শক্তি দান করুন। আমিন।